নারী কাউন্সিলরদের শোপিস মনে করা হয়

নারী কাউন্সিলরদের শোপিস মনে করা হয়

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হই। অর্থের অভাবে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দিতে পারি না। পুরুষ কাউন্সিলররা আমাদের শোপিস মনে করেন। মতামতের গুরুত্ব দেন না। তারপরও আমরা নারী কাউন্সিলররা এগিয়ে যেতে চাই।

এ বক্তব্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত ৬ আসনের নারী কাউন্সিলর নারগিস মাহতাবের। তিনি চলতি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে আজ রোববার সকালে ‘নিরাপদ, নারীবান্ধব ঢাকা মহানগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে নারী কাউন্সিলরদের করণীয়’ শিরোনামে এক মতবিনিময় সভায় এভাবেই তিনি সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলরদের ক্ষোভ ও বঞ্চনার কথা জানান। আসন্ন সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সভার আয়োজন করে এ সংগঠন।

নারগিস মাহতাব আরও বলেন, ‘সংসদে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের ব্যালটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে হয় না। কিন্তু আমাদের হয়। সে জন্য জনগণের প্রত্যাশা পূরণের কাজের সুযোগ দিতে হবে। না হলে পাঁচ বছর পরে তাঁদের সামনে দাঁড়ানো যায় না।

টানা তিনবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত আসন ১০ থেকে কাউন্সিলর ছিলেন সামসুননাহার ভূঁইয়া। বিএনপি–সমর্থিত এই নারী এবারও নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের দাপ্তরিক কাজের সুযোগ নেই। সেবামূলক কাজ করতে গিয়েও অনেক সময় কাউন্সিলরদের কাছ থেকে অসম্মানজনক আচরণ মেলে। মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়, এ বৈষম্য রোধে দল-মতনির্বিশেষে নারী কাউন্সিলরদের সমন্বিতভাবে আন্দোলন করতে হবে।

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০২০-এ নারী কাউন্সিলর প্রার্থিতা করছেন—এমন আওয়ামী লীগ–সমর্থিত পাঁচজন ও বিএনপি–সমর্থিত দুজন উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, নারী কাউন্সিলররা কম বরাদ্দ পান। উন্নয়ন প্রকল্পের কমিটিতে রাখা হলেও নারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয় না। মতামতের গুরুত্বও নেই। এমনকি পদে পদে বৈষম্য আছে।

ঢাকার মেয়রের সীমিত ক্ষমতার প্রভাব নারী কাউন্সিলরদের কর্মক্ষেত্রেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন স্থপতি ও বিশিষ্ট নগর–পরিকল্পনাবিদ মোবাশ্বের হোসেন। তিনি বলেন, এ সমস্যার সমাধানে মেয়রদের ক্ষমতায়িত করতে হবে, সাতটি মন্ত্রণালয়ের থেকে মেয়রকে মুক্ত করতে হবে। নারীর জন্য নিরাপদ নগর গড়তে মোবাশ্বের হোসেন ঢাকার প্রতিটি এলাকায় নিরাপদ টয়লেটের ব্যবস্থা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা ও গণপরিবহনব্যবস্থা উন্নত করার প্রতি জোর দেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, নারী কাউন্সিলররা তিনটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু কাজ করার সময় বরাদ্দ পান না, কাজ দেওয়া হয় না। তাই বরাদ্দ দেওয়ার সময় তিনটি ওয়ার্ডকে বিবেচনা করেই বরাদ্দ দিতে হবে।

আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচিত নারী কাউন্সিলরা নগরের নাগরিকদের অধিকার প্রাপ্তিতে, বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের যাতায়াতে নিরাপদে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। এ সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য ক্ষমতার কাছে জিম্মি রাজনীতিকে দূর করে জনগণের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে, মেয়রদের ক্ষমতায়িত করতে হবে।