কপাল খুলল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজার

কপাল খুলল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজার

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা চৌধুরীর প্রতিভা নিয়ে সংশয় নেই কারও। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটির মূল একাদশে হামজার সুযোগ হয় খুব কমই। অধিকাংশ সময়েই অন্তত লিগ ম্যাচে মাঠে নামেন বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে।কারণ,হামজা যে পজিশনের খেলোয়াড়, সে জায়গায় লেস্টার সিটির হয়ে যিনি খেলেন, তিনি শুধু লেস্টারেরই নন বর্তমান সময়ে তর্কযোগ্যভাবে গোটা লিগেরই সেরা খেলোয়াড়। হামজা মূলত একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার। ওই যে, কাসেমিরো, সার্জিও বুসকেটস, এনগোলো কান্তে, জেনারো গাত্তুসো, জিলবার্তো সিলভা, ক্লদ ম্যাকেলেলের মতো খেলোয়াড়েরা যে পজিশনে খেলেন, সেখানে। আগে ঘর সামলাও, তারপর দলের আক্রমণে সাহায্য করো। দুই সেন্টারব্যাকের মধ্যে থেকে দলের রক্ষণভাগকে অটুট রাখা, দুই ফুলব্যাককে ওপরে ওঠার ‘লাইসেন্স’ দেওয়াই মূল কাজ। অন্যান্য ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের মতো হামজার ভূমিকাটাও এমন।

কিন্তু একই ভূমিকায় লেস্টারের হয়ে খেলেন উইলফ্রিয়েড এনদিদি। নাইজেরিয়ার এ রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারকে শুধু লেস্টারেরই নয়, বর্তমান সময়ে ইংলিশ লিগেরই সেরা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার মানা হচ্ছে। চেলসির এনগোলো কান্তে বা লিভারপুলের ফাবিনহো চোটে পড়ে মাঠের বাইরে, তাই এনদিদিকে এখন লিগের সেরা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার বলতে তেমন আপত্তি থাকার কথা না কারও। অনেকের চোখে গোটা আফ্রিকাতেই তাঁর চেয়ে সেরা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার নেই।

মিডফিল্ডে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পা থেকে বল কেড়ে নিজের রক্ষণভাগকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি নেই। এমন না যে কোনো দলের মূল একাদশে একই সঙ্গে দুজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার খেলেন না। কিন্তু লেস্টারের কোচ ব্রেন্ডন রজার্সের পছন্দের ৪-১-৪-১ ছকে শুধু একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারই খেলতে পারেন। যে কারণে মূল একাদশে হামজা না, খেলতেন এনদিদি।

আর এখানেই কপালটা পুড়েছিল হামজার। লেস্টারে (বা চেলসি, লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি) না খেলে প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোনো ক্লাবে খেললে হামজা প্রতি সপ্তাহেই লিগে মাঠে নামতেন, মূল একাদশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতেন। এনদিদির কারণে যেটা হচ্ছিল না।

হচ্ছে না—না বলে হচ্ছিল না বলার কারণ একটাই, অনুশীলন করতে গিয়ে গত সপ্তাহে চোটে পড়েছেন এনদিদি। ডাক্তারি পরীক্ষার পর জানা গেছে, এনদিদির চোটটা বেশ গুরুতর। অস্ত্রোপচার করা লাগবে পায়ে। আর এ অস্ত্রোপচার করে সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে ফিরতে কমপক্ষে ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ অন্তত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কপাল খুলে গেছে হামজার, নিয়মিত মূল একাদশের অংশ হতে আপাতত কোনো সমস্যা নেই হামজার।

এনদিদির চোটের কারণে গত বৃহস্পতিবার লিগ কাপের ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ৩-৪-৩ ছকে নেমেছিল লেস্টার। হামজাকে প্রথমে নামাননি কোচ রজার্স। কিন্তু প্রথমার্ধের জঘন্য পারফরম্যান্সের পর বুঝতে পারেন, মাঠে হামজাকে লাগবেই। ম্যাচশেষে সেটা স্বীকারও করেছেন লেস্টার কোচ, ‘হামজাকে প্রথমে না নামানোটা আমার ভুল ছিল। ও মাঠে নামার পরপরই মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে চলে আসে।’ হামজা মাঠে নামার আগে এক গোলে পিছিয়ে থাকা লেস্টারের একমাত্র গোলটাও আসে হামজা নামার পরেই। সে গোলের সুবাদে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে লেস্টার সিটি।

লিগ কাপের ম্যাচে ভুল করলেও, গতকাল লিগের ম্যাচে আর ভুল করেননি রজার্স। সাউদাম্পটনের বিপক্ষে হামজাকে মূল একাদশেই নামিয়েছিলেন। যদিও কালকের দিনটা লেস্টারের ছিল না। নিজেদের মাঠে সাউদাম্পটনের কাছে ২-১ গোলে হেরে বসেছে তারা। পুরো নব্বই মিনিট খেলেছেন হামজা।

তবে লেস্টার ম্যাচ হারলেও, একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, এনদিদি ফেরার আগ পর্যন্ত রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডে রজার্সের মূল ভরসা এখন হামজাই।